1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
কমিটি গঠন নিয়ে জামায়াতের কুমিল্লা মহানগরে বিরোধ, ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুর - আজকের কাগজ
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে উত্তাল আলবেনিয়া, পদত্যাগে নারাজ প্রধানমন্ত্রী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ভ্রমণের জন্য উন্মুক্ত সাজেক আসামি ‘ছিনিয়ে নিতে’ ফাঁড়িতে হামলা, দুই পুলিশ সদস্য আহত সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ও তার পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৪৩ যুব উন্নয়ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫ বিদ্যুৎ খাতে অর্থায়ন বাড়াতে চীনা ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জ্বালানিমন্ত্রীর ককরোচ পার্টির পক্ষে রায় দিল্লি হাইকোর্টের সংসদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর, দিলেন যেসব নির্দেশনা কর্ণফুলি শিকলবাহা খাল থেকে নারীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বামীসহ গ্রেপ্তার ২

কমিটি গঠন নিয়ে জামায়াতের কুমিল্লা মহানগরে বিরোধ, ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুর

মাহবুবুর রহমান মিয়াজী
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:২৬ পিএম
শেয়ার করুন

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কমিটি গঠন ও আমির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলটির অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে ককটেল বিস্ফোরণ, হট্টগোল ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে নগরের মোগলটুলি এলাকার ফারুকিয়া হাউজিংয়ে অবস্থিত জামায়াতের মহানগর কার্যালয় চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এতে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার সময় কার্যালয়ের ভেতরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুমসহ মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা মহানগর জামায়াতের আমির নির্বাচনপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতা ও রুকনদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। এ সময় কার্যালয়ের বাইরে একদল নেতাকর্মী জড়ো হয়ে হট্টগোল শুরু করেন। পরে সেখানে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমির নির্বাচন ঘিরে অসন্তোষ
দলটির মহানগর পর্যায়ের একাধিক নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে কাজী দ্বীন মোহাম্মদ মহানগর জামায়াতের আমিরের দায়িত্বে থাকায় দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে মহানগর কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে পরবর্তী কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে দলটির ভেতরে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নেতা জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমান আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এবং দুই নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হক (মামুন) ও মোসলেহ উদ্দিনকে পরবর্তী কমিটির নেতৃত্বে না রাখার বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। তাঁদের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অন্য দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও তাঁরা দাবি করেন।
নেতাদের ভাষ্য, সম্প্রতি আমির নির্বাচন উপলক্ষে প্রস্তুত করা ভোটার তালিকায় বর্তমান আমির ও দুই নায়েবে আমিরের নাম না থাকলেও সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানসহ অন্য নেতাদের নাম রয়েছে। এ নিয়ে দলের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। মাহবুবুর রহমান আমির নির্বাচিত হতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে তাঁর বিরুদ্ধে জমি কেনাবেচাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর কথাও জানান তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিন একই পদে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন
দলীয় সূত্রের দাবি, কাজী দ্বীন মোহাম্মদ ১৯৯৮ সাল থেকে কুমিল্লা শহর জামায়াতের আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১১ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর তিনি মহানগর জামায়াতের আমিরের দায়িত্বেও থাকেন। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে একই নেতৃত্ব বহাল থাকা নিয়ে দলের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করছেন কয়েকজন নেতা।
তাঁদের মতে, আসন্ন আমির নির্বাচনকে ঘিরে নেতৃত্বের প্রশ্নে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে। তবে এ বিরোধের পেছনের কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
কার্যালয়ে বৈঠক চলাকালে হামলার অভিযোগ
দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুসারে রুকনদের ভোটে আমির নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনপ্রক্রিয়ার দায়িত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুম। বুধবার তিনি মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। বৈঠক চলাকালে কার্যালয়ের বাইরে হট্টগোলের একপর্যায়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
দলীয় নেতাদের একাংশ এ ঘটনার জন্য নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হকের অনুসারীদের দায়ী করেছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময় তিনি কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না বলেও দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার পর কার্যালয়ের সামনে ভাঙা গাড়ি, কাচের টুকরা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। কেন্দ্রীয় নেতা এ টি এম মাছুম নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশের বক্তব্য ও জামায়াতের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হক, সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান এবং সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেলসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে মহানগর জামায়াতের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে কাজী দ্বীন মোহাম্মদের বরাতে বলা হয়, মহানগরীর সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। বুধবার রাত সাতটার দিকে মহানগর জামায়াতের কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত সভা চলাকালে কিছু যুবক সেখানে প্রবেশ করে হইচই শুরু করে। পরে তারা চিৎকার করতে করতে চলে যাওয়ার সময় একটি গাড়ি ভাঙচুর করে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরো খবর