
বৈষম্যবিরাধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলার সময় গত ১৯ জুলাই ভাঙচুর করা হয় মেট্রোরেলের কাজীপাড়া ও মিরপুর-১০ স্টেশন।হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর বিগত আওয়ামী সরকার জানিয়েছে স্টেশনটি দুটি চালু করতে প্রায় এক বছরের বেশি সময় লাগবে এবং স্টেশন দুটি সচল করতে ৩৫০ কোটি টাকা খরচ হবে। তবে ২ মাস ১৭ দিন পর মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর চালু হয়েছে মেট্রোরেল মিরপুর-১০ স্টেশন। প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকায় মেরামত করে সচল করা হয়েছে মেট্রোরেলের মিরপুর-১০ স্টেশন। অন্তত ৮৮ দিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে স্টেশনটিতে ট্রেন থামছে এবং যাত্রীরা ওঠানামা করছেন।
মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর মিরপুর ১০ নাম্বার স্টেশন পরিদর্শনে এসে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সাংবাদিকদের জানান, মিরপুর-১০ স্টেশন চালু করতে খরচ হয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। যেহেতু অন্যান্য স্টেশনগুলো থেকে অনেক যন্ত্রাংশ এনে এখানে সংযোজন করা হয়েছে, তাই সেসব যন্ত্রাংশ আমদানিসহ আমাদের দুই স্টেশনে মোট খরচ হবে ১৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। সেখানে আরও কিছু বেশি যন্ত্রাংশও থাকবে। এছাড়া গত ২০ সেপ্টেম্বর ২২ লাখ টাকার প্রাথমিক ব্যয়ে কাজিপাড়া স্টেশনটি চালু করা হয়।
ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মধ্যে গত ১৯ জুলাই মিরপুরের-১০ নম্বর এবং কাজীপাড়া স্টেশনে ভাঙচুর হয়। এতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ২৭ জুলাই তখনকার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দাবি করেছিলেন, স্টেশন দুটি সচলে ৩৫০ কোটি টাকা লাগবে। চালু করতে এক বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। তবে মাত্র ২ মাস পরেই গত ২০ সেপ্টেম্বর মাসে কাজীপাড়া স্টেশন চালু করা হয়েছে।
এ সময়ে ফাওজুল কবির খান জানান, মেট্রোস্টেশন আন্দোলনকারী ছাত্ররা ভাঙচুর করেনি। যারা স্টেশন ভাঙচুর করেছে তাদের সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। তবে মেট্রোরেলের নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সরকারি কোম্পানি ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলছেন, কোনো সরঞ্জাম আমদানি না করে দেশীয় সম্পদের ব্যবহার করেই স্টেশন সচল করা হয়েছে। এ ছাড়া যাত্রীচাপ তুলনামূলক কম থাকায় তিনটি স্টেশন থেকে কিছু যন্ত্রাংশ খুলে লাগানো হয়েছে মিরপুর ১০ স্টেশনে। বাকি যন্ত্রাংশ আমদানি করতে হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ সম্পন্নে মাস তিনেক সময় লাগবে।
এর আগে সোমবার (১৪ অক্টোবর) উত্তরায় মেট্রোরেলের প্রশাসনিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, মেট্রোরেলের মিরপুর-১০ স্টেশনের প্রয়োজনীয় মেরামত ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে। প্রস্তুত করা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত টিকিট কাটার মেশিন, ইলেকট্রনিক সরঞ্জামসহ পুরো অবকাঠামো। এখন মেট্রোরেলে চলাচল করতে পেরে যাত্রী সাধারণ আনন্দের কথা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এক বছরের জায়গায় মাত্র দুই মাসে মাথায় মেট্রোরেলে চলাচল করার উপযোগী করে তোলায় যাত্রী সাধারণের জন্য অনেকটাই সময় কম লাগবে এবং তাড়াতাড়ি গন্তব্য স্থানে পৌঁছাতে পারবে বলে মনে করছেন মেট্রোরেলের চলাচল রত সাধারণ যাত্রীরা।
Leave a Reply