
মিরপুর ১০ নাম্বার গোলচত্বরে পানির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। এই সময় পুরো ১০ নাম্বার এলাকার সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। একদিকে চরম গরমে অতিষ্ঠ, অন্যদিকে পানি সংকট নিয়ে গত ২৫ দিন যাবৎ তারা বসবাস করছে। এমন অবস্থায় চরম গরমে পানি না পেয়ে অতিষ্ঠ হয়েই তারা সড়কে নেমেছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভুগিরা। গতকাল মঙ্গবার ১১”ই জুন ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় দুপুর ৩ টার দিকে সড়ক অবোরধ করে এই বিক্ষোভ করেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা বলছেন, গরমে চরম অবস্থা যখন তখন বাসার নিত্যকাজ করতে যে পানি লাগে সে পানিও তারা পাচ্ছে না। তাদের বস্তিতে এক মাস ধরে পানির সংকট অল্প কিছু সময়ের জন্য পানি এলেও বেশিক্ষণ তা থাকে না। এ ছাড়াও পানিতে ময়লা ও দুর্গন্ধ ছিল। কিন্তু গত ২৪ দিন টানা পানি নেই এজন্য বাধ্য হয়ে তারা রাস্তায় নেমেছেন। পানির দাবিতে সড়কে অবরোধে নামেন শাহপরান বস্তি, বালুরমাঠ বস্তিসহ ৩টি ক্যাম্পের পাঁচশতাধিক বাসিন্দা। এ সময় অনেকে খালি কলসি নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। একপর্যায়ে বিক্ষাভকারীরা মিরপুর ১০ গোলচত্বর সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে মিরপুর থানা পুলিশের একটি দল এসে সমস্যার সমাধানের আশ্বাসে তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। পানির দাবিতে কলস নিয়ে সড়ক অবরোধে এসেছেন রোকসানা আক্তার। তিনি বলেন, প্রায় এক মাস ধরে পানি নাই! পানির জন্য ছুটতে হচ্ছে মানুষের বাসায় বাসায়। এই তীব্র তাপদাহে পানির অভাব অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন তারা। বালুরমাঠ বস্তির চেয়ারম্যান জয়নাল বলেন, টানা ২৫ দিন পানির সংকট। মানুষ বিভিন্ন জায়গা থেকে পানি সংগ্রহ করে প্রয়োজন সারছেন এখন বাধ্য হয়ে সবাই মিলে রাস্তায় নেমেছেন। ওয়াসার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা শুধু বলছে, ‘আমরা দেখছি।’কুর্মিটোলা ক্যাম্পের বাসিন্দা মিনা খাতুন জানান, দুই মাস ধরে তাঁদের পানির সংকট। গত ২৫ দিন ক্যাম্পে এক ফোঁটাও পানি নেই। পুরো ক্যাম্পে পানির হাহাকার। প্রতি মাসে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পানির বিল দেওয়ার পরও পানি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শাহপরান বস্তির বাসিন্দা মিলন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পের পানির লাইন ওয়াসার লোকজন টাকা খেয়ে সাগুফতাকে (হাউজিং কোম্পানি) দিয়েছে।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ) এ কে এম সহিদ উদ্দিন বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুতের ব্যবস্থা হলে, সব সমাধান হয়ে যাবে। গরম কমলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। বিদ্যুৎ থাকলে পাম্প চলবে, পানি উঠবে। না থাকলে পাম্প চলবে না।’
Leave a Reply