
রাজধানীতে অভিনব কৌশল অবলম্বন করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে (ডিজিএফআই) এর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণার পাশাপাশি চাঁদাবাজী করে আসছিল একটি চক্র এই চক্রের একজনকে হাতেনাতে (এনএসআই) এর ফিল্ড অফিসারদের সহযোগীতায় গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। আটকৃত ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসা করলে সে নিজেকে (ডিজিএফআই) এর হেডকোয়ার্টার ফাইনান্স বিভাগের একজন ইনচার্জ বলে পরিচয় দেয়। পরবর্তীতে তার নিকট ডিজিএফআইয়ের আইডি কার্ড চাওয়া হলে সে আইডি কার্ড দেখাতে ব্যর্থ হয়।

সূত্রে জানা যায়, ডিজিএফআই এর পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ট্রাকসেলের (ওএমএস) চাল বিক্রেতাদের থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন তনি। মিরপুর-১ নম্বরে স্বাধীন বাংলা মার্কেটে অবৈধ ভাবে দোকান বরাদ্ধ নেওয়ার জন্য মার্কেটের ম্যানেজারকে গ্রেফতারের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরবর্তীতে মার্কেটের ম্যানেজার নিরুপায় হয়ে তাকে ২ কোটি টাকা অফার করছে বলে জানা গেছে।
১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টার দিকে মিরপুর-১, সনি সিনেমা হলের সামনে পুলিশ বক্সে এসে সার্জেন্ট রেজাউল করিম নিযেকে ইএমই, (অবঃ), ডিজিএফআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ট্রাফিক পুলিশের (টিআই) মশিউর রহমানের কাছে অনৈতিক সুবিধা দাবী করেন এবং তার কাছ থেকে ১১০০ টাকা গ্রহন করেন। এ সময়ে তার কর্মকাণ্ড সন্দেহ হলে মিরপুর জোনের এনএসআই ফিল্ড অফিসার নাঈম আহমেদ ও ফিল্ড অফিসার কাউসার আহমেদকে খবর দেন। পরে তার কথা বার্তা সন্দেহ হলে এনএসআই ফিল্ড অফিসাররা তাকে আটক করেন। এবং এ বিষয়ে এনএসআই সদস্যরা আর্মি ক্যাম্পে অবগত করেন। পরবর্তীতে ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম, ২৫ এডি রেজিঃ এর নেতৃত্বে টহল টিম শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টোডিয়াম, মিরপুর -১০, আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যায়। ভুয়া (ডিজিএফআই) পরিচয় দান কারি সার্জেন্ট রেজাউল করিম, ইএমই, (অবঃ), (৫১) তার পিতাঃ মৃত ইসহাক আলী। তার গ্রামের বাড়ি খুলনা জেলার চাঁটখালী পাইকগাছা থানা বলে জানা গেছে ।
এবিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের (টিআই) মশিউর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি “আজকের কাগজকে” বলেন, রেজাউল করিম নিজেকে (ডিজিএফআই) এর হেডকোয়ার্টার ফাইনান্স বিভাগের একজন ইনচার্জ বলে পরিচয় দিয়ে তার ক্রেডিট কার্ডের সমস্যা হয়েছে বলে টাকা দাবি করেন পরে ১১০০ টাকা দিয়ে বিদায় করেন তাকে। আবার গ্রেফতারের পর সেই টাকা ফেরতও দিয়ে যান বলে জানান। তবে ভয়ভীতি দেখানোর কথা অস্বীকার করেন এই কর্মকর্তা।
Leave a Reply