
রাজধানীর মিরপুর কমার্স কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র জুবায়ের হাসান রাফিতকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে তারি সহপাঠী শিক্ষার্থীরা। জুবায়ের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সহপাঠীরা মানববন্ধনের সময় সাত দফা দাবী জানান। ছাত্রদের মানববন্ধনে বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে অনেক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। সোমবার (৮ জুলাই) সকাল ১১ টার দিকে কমার্স কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রদের উদ্দ্যেগে কলেজের সামনেই এ মানববন্ধন করা হয়। এর আগে শনিবার (০৬ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে মিরপুর কমার্স কলেজের পেছনে লাল ভবনের তৃতীয় তলায় তার সহপাঠীর বাসায় জুবায়েরকে হত্যার ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ক্লাসরুমে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে ঢাকা কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী জুবায়ের হাসান রাফিতকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে তারই সহপাঠী চৌধুরী রাজিন ইকবাল। তারা দুজনি ঢাকা কমার্স কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। ক্লাসে দাবা খেলার বোর্ড বাজেয়াপ্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজিন জুবায়েরের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। কারণ রাজিন সেই দাবার বোর্ড ফিরে পেতে নিয়মিত ছাত্র দাবি করে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু তাতে জুবায়ের আপত্তি জানায়, রাজিন নিয়মিত ছাত্র না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা এবং হাতাহাতিও হয়েছিল। সে কারণে জুবায়েরের ওপর তার ক্ষোভ ছিল। ক্ষোভ থেকে জুবায়েরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে রাজিন। সূত্রে যানায়, গত জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজিনের কাছে কলেজের শিক্ষক একটি দাবা বোর্ড পায়। পরে সেটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে কলেজের উপদেষ্টা বরাবর নিয়মিত শিক্ষার্থী উল্লেখ করে দাবা বোর্ডটি ফিরে পেতে আবেদন করে রাজিন। কিন্তু জুবায়ের শ্রেণির ক্লাশ ক্যাপ্টেন হওয়ায় আবেদনটিতে নিয়মিত শিক্ষার্থী উল্লেখ করাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টির এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়। পরে কলেজ শিক্ষকদের মধ্যস্থতায় বিষয়টির মীমাংসা করা হয় এবং অভিভাবকদের অবহিত ও সতর্ক করা হয়। এ ঘটনার জেরে রাজিনের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রাজিন জুবায়েরকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে। হত্যা পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক গত শনিবার দুপুরে রাজিন জুবায়েরকে কমার্স কলেজের পার্শ্ববর্তী নিজ ভাড়া বাসায় কৌশলে ডাকে এবং তার ডাকে সাড়া দেয় জুবায়ের। এরপর বিকালে সেখানে পৌঁছালে তাদের মধ্যকার পূর্বের বিষয়টি নিয়ে পুনরায় বাক-বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে রাজিন জুবায়েরকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা এবং মৃত্যু নিশ্চিত করে। হত্যার বিষয়টি রাজিন তার বাবাকে জানালে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানার পূর্বেই রাজিনকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। শেষে লাশটি সম্পর্কে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ অবগত হলে রাজিনের বাবাও কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পরে এ ঘটনায় একটি মামলা হয়। এরপর গত রবিবার (৭ জুলাই) হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত রাজিনকে গ্রেফতার করে র্যাব।সোমবার (৮ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি গনমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) লে.ক আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, কলেজ শিক্ষার্থী জুবায়ের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তারই সহপাঠী রাজিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার ঘটনার কথা স্বীকারোক্তি দিয়েছে। র্যাব জানায়, গত শনিবার সন্ধায় শাহ আলী এলাকার ঢাকা কমার্স কলেজের পার্শ্ববর্তী চারতলা বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার একটি ভাড়া বাসায় এক কলেজ শিক্ষার্থীর লাশ পায় এলাকাবাসী। পরে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। পরে এ ঘটনায় একটি মামলা হয়। সেই মামলার পলাতক আসামি রাজিনকে গ্রেফতারের জন্য র্যাব সদর দফতর গোয়েন্দা শাখার সহযোগিতায় মাঠে নামে র্যাব-৪ ও র্যাব-৯ এর একটিদল। নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনপূর্বক মূলহোতা চৌধুরী রাজিন ইকবালকে গ্রেফতার করে র্যাব। মূলহোতা চৌধুরী রাজিন ইকবালকে গ্রেফতার পর তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আগে রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে জুবায়ের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সন্ধ্যায় নিহত জুবায়েরকে তার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দাফন করা হয়। নিহত জুবায়েরের বাবার নাম আবুল বাসার বাদশা। তিনি আড়াইহাজার ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে জুবায়ের ছিলেন সবার বড়।
Leave a Reply