
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে জেড. এইচ. শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের প্রভাষক সুমাইয়া আখতার দিপা সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত উই-পাওয়ারের চতুর্থ আঞ্চলিক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ‘শক্তিকন্যা’ নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচির শীর্ষ পারফর্মারদের একজন হিসেবে তিনি এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেন।
গত ৪ ও ৫ জুন শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো শহরে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের আয়োজন করে দক্ষিণ এশিয়ার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নারীদের পেশাগত নেটওয়ার্ক উই-পাওয়ার। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আয়োজিত এ সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নেতৃত্ব বিকাশ, নারীর অংশগ্রহণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ে নানা অধিবেশন, আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আয়োজন ছিল সম্মেলনজুড়ে।
জানা যায়, ‘শক্তিকন্যা’ লিডারশিপ প্রোগ্রামের একটি দল থেকে চারজন শীর্ষ পারফর্মার এবং পরবর্তী দলের আরও কয়েকজনসহ মোট সাতজন বাংলাদেশি প্রতিনিধি এ সম্মেলনে অংশ নেন। তাদের মধ্যে রুয়েট থেকে একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন সুমাইয়া আখতার দিপা।
সম্মেলনের অংশ হিসেবে প্রতিনিধিরা বিভিন্ন নেটওয়ার্কিং অধিবেশনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার পুত্তালাম অঞ্চলে অবস্থিত একটি বায়ুশক্তিভিত্তিক নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের সুযোগ পান। এর মাধ্যমে তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সুমাইয়া আখতার দিপা বলেন, “শক্তিকন্যা আমার জন্য শুধু একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়, এটি আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্ব বিকাশের এক অনন্য যাত্রা। শীর্ষ পারফর্মার হিসেবে উই-পাওয়ারের আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া ছিল অত্যন্ত গর্বের। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করার অভিজ্ঞতা আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। বিশ্বব্যাংক, উই-পাওয়ার এবং শক্তিকন্যার প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ, যারা আমাকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার এই মূল্যবান সুযোগ করে দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “সম্মেলনের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার সংস্কৃতি, মানুষের আন্তরিকতা এবং স্থানীয় পরিবেশ আমাকে মুগ্ধ করেছে। এ অভিজ্ঞতা আমার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীদের এমন অংশগ্রহণ ও সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে নারীদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও এ অর্জন তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।