1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
৮ দিনে অবসরে যাচ্ছেন, তবু কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যে ব্যস্ত এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক মঞ্জুর আলী! - আজকের কাগজ
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
নিরাপত্তা উদ্বেগে পাকিস্তান যাচ্ছেন না জেডি ভ্যান্স: ট্রাম্প বিগত সময়ের অপরাধ অনুসন্ধানে বিচারিক কমিশন গঠন করা হবে: জবি উপাচার্য কুড়িগ্রামে ৭৬ কেজি গাঁজাসহ আটক ১ চৌদ্দগ্রামে পিআইও’র বিরুদ্ধে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ লুট,অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ কুড়িগ্রামে বাইক চোরচক্র ধরা, ৯ গ্রেপ্তার চার দাবিতে ববি শিক্ষার্থীদের ঢাকা–কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ, জনসাধারণের ভোগান্তি রাণীশংকৈলে শাটারিং খুলতে গিয়ে সেফটি ট্যাংকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু মেরিন ড্রাইভে ভাড়ায় চালিত গাড়িতে আগুন: বেঁচে গেল যাত্রীরা খাল খননের মাধ্যমে কৃষি জমি তিন ফসলিতে রূপান্তর করা হবে: আবুল কালাম এমপি খাল খননে যশোর ও সিলেটে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

এলজিইডির মহা দুর্নীতি

৮ দিনে অবসরে যাচ্ছেন, তবু কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যে ব্যস্ত এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক মঞ্জুর আলী!

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫ ৬:১৭ পিএম
শেয়ার করুন

* উপদেষ্টার নাম ভাঙিয়ে নিয়োগের পাঁয়তারা

* পিডির ভাই রাজুর মাধ্যমে টাকা আদায়

* ৫ কোটি টাকার লেনদেন

* চীফ ইঞ্জিনিয়ারকে বিভ্রান্ত করে সময়ক্ষেপণ

* সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ

* দুদকে অভিযোগের প্রস্তুতি

আগারগাঁও এলজিইডি অধিদপ্তরের রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (আরইউটিডিপি)-এর প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. মঞ্জুর আলীর বিরুদ্ধে আউটসোর্সিংয়ে লোক নিয়োগের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, আরইউটিডিপি প্রকল্পটিতে প্রায় ২০০ জন আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এবং এই সুযোগে পিডি শত শত চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২ থেকে ৫ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, মো. মঞ্জুর আলী আর মাত্র আট দিন অফিস করবেন, এরপরই তিনি অবসরে যাবেন। এর ফাঁকেই তিনি প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ৪২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের প্রকল্পটি ২০২৫ সালের জুনে শুরু হয়েছে, যা ২০৩০ সালের জুনে শেষ হবার কথা রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জানা গেছে, আরইউটিডিপির পিডি মো. মঞ্জুর আলী নাম সর্বস্ব একটি আউটসোর্সিং কোম্পানির সাথে যোগসাজেশে ২০০ জন লোক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেন, কিন্তু এই দুর্নীতিবাজ পিডি তাঁর ভাই রাজুর মাধ্যমে শত শত মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণা শুরু করেছেন। কিশোরগঞ্জের চাকরি প্রত্যাশী আলী হোসেন বলেন, আরইউটিডিপি প্রকল্পে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগের জন্য প্রকল্প পরিচালকের ভাই রাজুর কাছে তিনি প্রায় দুই মাস আগে ২ লাখ টাকা দিয়েছেন, কিন্তু এখনও চাকরি পাননি। চাকরির কথা বললে রাজু বলেন, “এই তো চাকরি হয়ে যাবে।” কিন্তু এলজিইডিতে গিয়ে তিনি অন্য কথা শুনছেন; প্রকল্পের লোকজন বলছে, পিডি স্যার আর মাত্র আট দিন আছেন, এরপরই অবসরে চলে যাবেন। এতে তাঁদের চাকরির কী হবে তা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তাঁর জানা মতে প্রায় ২০০ জন লোকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্রটি। ভোলা জেলার সবুজ নামের আরেকজন সহকারী প্রকৌশলী হিসাবে চাকরি প্রত্যাশী, তিনি জানান চাকরির জন্য তিনি আরইউটিডিপি প্রকল্পে আবেদন করেছেন। এরই মধ্যে এক দালালের সাথে তাঁর পরিচয় হয়, যিনি তাঁকে প্রকল্প পরিচালকের ভাই রাজুর কাছে নিয়ে যান এবং পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর পিডি’র ভাই পরিচয়ে তাঁর কাছে চাকরি দেয়ার নামে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। সবুজ প্রায় এক মাস আগে তাঁকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন, কিন্তু চাকরি এখনো কনফার্ম হয়নি। এর মধ্যে শুনছেন, পিডির চাকরি আর মাত্র আট দিন আছে। এভাবে শুধু একজন বা দুইজন নয়, শত শত মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। মঞ্জুর আলী অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির লোক বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রধান প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমকে অনুনয় বিনয় করে ভুল বুঝিয়ে চাকরির শেষ সময়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন মঞ্জুর আলী ও তাঁর ভাই রাজু। মঞ্জুর আলী তাঁর গোপন আস্তানায় বসেই কীভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে, সেই সব চূড়ান্ত করছেন। এলজিইডির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানিয়েছে, প্রকল্প পরিচালক ও তাঁর ভাই রাজুর অপরাধ ঢাকতে তড়িঘড়ি করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে চাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মঞ্জুর আলীর অফিসের এক কর্মকর্তা  বলেন, কোনো কারণে যদি নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায় বা পিডি মঞ্জুর আলী অবসরের আগে নিয়োগ দিতে না পারেন, তবে পিডি ও তাঁর ভাই রাজুর বিরুদ্ধে লোকজন এলজিইডির সামনে মানববন্ধন করলে তখন বুঝা যাবে কার কার নিকট থেকে তাঁরা টাকা নিয়েছে। এলজিইডির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, যত লোক নিয়োগ দেওয়া হবে তার দ্বিগুণ লোকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু সবাই চাকরি পাবে না। অনুসন্ধান করতে প্রকল্প পরিচালক মঞ্জুর আলীর অফিসে গিয়ে তাঁর নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন করলে তিনি কোনো জবাব দিতে পারেননি। বরং তিনি  বলেন, “এগুলো আমার ব্যক্তিগত বিষয়।” সরকারি অফিস কীভাবে তাঁর ব্যক্তিগত হয় এমন প্রশ্ন করলে তিনি তাঁর অফিস পিয়নকে ডেকে সাংবাদিকের সামনে পিয়নকে বিভিন্ন ভাষায় ধমক দেন, কীভাবে তাঁর রুমে সাংবাদিক ঢুকলো। সাংবাদিকরা তাঁর কাছে কোন কোন আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান কাজ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করছে, জানতে চাইলে তিনি শুধু অবাক হয়ে সাংবাদিকদের দিকে তাকিয়ে থাকেন। সাংবাদিকরা যখন বলেন, তাঁর মনোনীত লোকজন আগে থেকেই আউটসোর্সিং কোম্পানির নিয়োগের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে, তিনি তখন কোনো প্রকার উত্তর না দিয়ে অফিস থেকে বের হয়ে যান।

এই বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *