
রাজধানীর গুলিস্তানে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ফের মাঠে নেমেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা ট্রেড সেন্টার পর্যন্ত এলাকাটিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে দখলদারদের সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ এবং মালামাল জব্দ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের দাবি, অভিযানের পরপরই সড়ক ও ফুটপাত সম্পূর্ণ দখলমুক্ত হয়েছে। অভিযান শেষ হতে না হতেই আবার বসছে দোকানপাট।
বারবার উচ্ছেদের পরও কেন হকাররা ফিরে আসছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, যতবারই অবৈধভাবে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করা হবে, ততবারই নগরবাসীর সুবিধার্থে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। অভিযানে অংশ নেন ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম। তবে বারবার অভিযান চালিয়েও হকারদের ফিরে আসা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো অজুহাত দেখিয়ে সড়ক দখল করে ব্যবসা করার সুযোগ নেই। এখন থেকে অবৈধভাবে বসার চেষ্টা করলে মালামাল জব্দসহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনে দখলদারদের গ্রেপ্তারও করা হবে। ঢাকা শহরকে বাঁচাতে এই কঠোর অবস্থানের কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে বুধবারও ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেট ও ঢাকা ট্রেড সেন্টার এলাকায় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিল সংস্থাটি। একাধিকবার আলোচনা, অনুরোধ ও সতর্ক করার মতো সব ধরনের পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি।
এদিকে হকারদের পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদের বিষয়ে করা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের উচিত সাধারণ মানুষের দাবির পক্ষে জনমত গঠন করা, এমন কোনো প্রশ্ন না করা যা দখলদারদের উৎসাহিত করে। প্রশাসক আরও বলেন, পুরো দেশের বাস্তুচ্যুত মানুষের দায়িত্ব ডিএসসিসি নিতে পারে না। জনগণের ভোগান্তি না ঘটিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্টসংখ্যক হকার বসতে দেওয়া যেতে পারে, বাকিদের নিজ জেলায় ফিরে যাওয়াই শ্রেয়। উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে উপস্থিত সাধারণ পথচারীরা স্বস্তি প্রকাশ করে নিয়মিত এমন অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানান।