
সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন, মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
রোববার (৫ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
গ্রেপ্তাররা হলেন-জয়নাল আবেদীন মানিক, রবিন তাজ, মামুন লস্কর সরকার, মো. হেলাল উদ্দিন, নজরুল ইসলাম এবং মো. ইসমাইল ওরফে রুবেল।
সংবাদ সম্মেলনে এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গত বছরের শেষভাগ থেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি, গ্রুপ, পেজ এবং টেলিগ্রাম চ্যানেলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে অশালীন, মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল।
এসব পোস্টের কারণে ভুক্তভোগীদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অধিযাচনপত্রের ভিত্তিতে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এ চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যেকোনো সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করার আগে তা যাচাই-বাছাই করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, সম্প্রতি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে টেলিগ্রাম, ফেসবুক ও ইউটিউবের বিভিন্ন চ্যানেলে পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি ছবি এআই শনাক্তকরণ সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ-সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য ও ডিজিটাল আলামত আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
তানভীর হাসান জোহা আরও বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক দেশি-বিদেশি বট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।